নিজস্ব প্রতিনিধি বরুড়া (কুমিল্লা):
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের বিলপুকুরিয়া গ্রামে আদালতের রায় অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ছায়েদ আলী প্রতিকার চেয়ে বরুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে শামছুল হকের কাছ থেকে ঝলম মৌজার ১৭১১ নং খতিয়ানভুক্ত ৭৩৩১ দাগে ১ শতাংশ এবং ৭৩৭১ দাগে ৪ শতাংশ—মোট ৫ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন মো. ছায়েদ আলী। ক্রয়ের সময় বিক্রেতা তাকে জমি দুটি পাশাপাশি বলে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ছায়েদ আলী জানতে পারেন, ৭৩৭১ দাগের ৪ শতাংশ জমি শামছুল হক আগেই অন্য কারো কাছে বিক্রি করে নিঃস্বত্ব হয়েছেন। এই প্রতারণার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল মো. ছায়েদ আলী বরুড়া সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা (নং ২৭/২০১৪) দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালত মো. ছায়েদ আলীর পক্ষে ডিক্রি জারি করেন এবং তাকে ঝলম মৌজার বিএস ৭৩৩১ দাগে ৫ শতাংশ ভূমির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার রায় প্রদান করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালতের রায় পাওয়ার পরও শামছুল হকের মেয়ে সাহিদা বেগম গং গত ৪ জুন সকাল ১০টার দিকে ওই জমিতে পুনরায় জবরদখল চালান। এ সময় বাগানের একটি কাঁঠাল গাছও কেটে ফেলা হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. ছায়েদ আলী বলেন, “দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত আমাকে ৫ শতাংশ জমির মালিকানা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ গায়ের জোরে আমার জায়গা দখলের পায়তারা করছে। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও আমার প্রাপ্ত জমি বুঝে পাওয়ার দাবি জানাচ্ছি।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামছুল হকের মেয়ে সাহিদা বেগম বলেন, “ছায়েদ আলীর জায়গা এটি নয়। তিনি অন্য জায়গার পরিবর্তে এই জমি রায় নিয়েছেন, যা আমরা মানি না।” ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরুড়া থানার দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জমি দখল ও গাছ কাটার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।