ওমর ফারুক, লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার লাকসামের বুক চিরে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদী বর্তমানে অবৈধ দখল ও ভয়াবহ পানি দূষণের শিকার। একসময় যে নদী এ অঞ্চলের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌ-যোগাযোগ এবং জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন ছিল, আজ সেই নদীর বিভিন্ন অংশে কালচে রঙের পানি, তীব্র দুর্গন্ধ, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ এবং সংকুচিত প্রবাহ উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীতে গৃহস্থালি বর্জ্য, বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য এবং অপরিশোধিত বর্জ্য পানি ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর পানির স্বাভাবিক গুণগত মান নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক স্থানে পানি কালচে রঙ ধারণ করেছে এবং দুর্গন্ধের কারণে নদীর আশপাশে বসবাসকারী মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দূষণের কারণে নদীতে মাছের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য। একই সঙ্গে নদীর তীর ও বিভিন্ন অংশে অবৈধ দখলের অভিযোগ থাকায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, একটি নদী শুধু পানির উৎস নয়; এটি একটি অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ডাকাতিয়া নদীকে রক্ষা করতে হলে দূষণের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় অব্যাহত দখল ও দূষণের কারণে একসময়ের প্রাণবন্ত ঐতিহ্যবাহী ডাকাতিয়া নদী তার স্বাভাবিক নাব্যতা ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।