রিয়াজ উদ্দিন রানাঃ বৈশাখী মেলা বা বৈশাখের মেলা হচ্ছে একটি বাঙালির উৎসব মেলা, যা বাংলাদেশ এবং দেশের বাইরে আয়োজিত হয়। কুমিল্লার বরুড়ায় শাকপুর ইউনিয়নের মধ্য লক্ষীপুর (কচুয়ার পাড়) শ্রী শ্রী মহাদেব সেবাশ্রমে শনিবার দিনব্যপী ২০৮ তম ঐতিহাসিক চড়ক পূজা ও বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও মধ্য লক্ষীপুর (কচুয়ার পাড়) প্রায় ত্রিশ হাজার লোকের সমাগমে ঐতিহাসিক চড়ক পূজা ও বৈশাখী মেলা হয়েছে। সকালে মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যেগে মহাদেব মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীর বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার নারী ও পুরুষেরা অংশ গ্রহন করেন। পূজা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এছাড়াও এ পূজায় হবিগঞ্জ জেলা থেকে আগত ১৫ জন সন্নাসী অংশগ্রহন করেন। পরে মন্দির প্রাঙ্গনে চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সন্নাসীদের মধ্যে দুজন সন্নাসী তাদের পিঠে লোহার হুক ফুঁটিয়ে চড়ক গাছে ঝুলে শিবের প্রতি তাদের চূড়ান্ত ত্যাগ ও ভক্তি প্রদর্শন প্রকাশ করেন। অপরদিকে মন্দির এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আগত উদ্যেক্তা এবং ব্যবসায়ীরা প্রায় ৫০টি স্টলে তাদের মুড়ি-মুড়কি, জিলাপি, মাটির পুতুল, খেলনা, কুঠির শিল্প, দেশীয় তৈজসপত্র, বিভিন্ন ধর্মীয় বই পুস্তক সহ বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসেন। ফলে পূজা মন্দির প্রাঙ্গনে নানা বয়সের হাজারো মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে। মেলায় সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন পূজা ও বৈশাখী মেলা কমিটির সভাপতি বাবু অরবিন্দ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক, প্রভাষক দিলীপ চন্দ্র সরকার। আরও উপস্থিত ছিলেন সনজিত, অমরকৃষ্ণ, মরু, বাপ্পি, মদন, কাকন, হিরন প্রমুখ। আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতি বছর এই পূজা ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। এখানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চড়ক পূজা দেখতে আসেন। মেলায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ সমবেত হন।