• শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন

হঠাৎ আলোচনায় খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন কি!

Dev Farhad / ১৩৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

Warning: Attempt to read property "post_excerpt" on null in /home/u403222581/domains/newsallbangladesh24.com/public_html/wp-content/themes/amarshomoy/single.php on line 110

নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত থাকায় জেলের বাইরে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুই ধরনের তথ্য এসেছে চার জন মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দণ্ডিত ব্যক্তি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার সুযোগ নেই। 

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নির্বাহী আদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তির ক্ষেত্রে রাজনীতি করা নিয়ে কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি, তবে তার শারীরিক অবস্থা রাজনীতি করার মত নয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, শর্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারেন না। আর নির্বাচনের তো প্রশ্নই আসে না।

কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে কোনো বাধা নেই। সরকারের চার মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, খালেদা জিয়া কি আসলে রাজনীতি করতে পারবেন? খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারা না-পারার প্রশ্নে কয়েক দিন ধরে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী যেসব কথা বলছেন, এসব বক্তব্যের ব্যাপারে বিএনপি আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে যান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। পরে আরেক মামলায়ও তার সাজার রায় হয়। কোভিড মহামারী শুরুর পর পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালের ২৪ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয় খালেদা জিয়াকে। তারপর থেকে তিনি গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের বাড়িতে থাকছেন। তাকে এই সময়ে হাসপাতালে যাওয়া ছাড়া রাজনৈতিক কোনো কার্যক্রমে দেখা যায়নি। দলের নেতারাও কালেভদ্রে পেয়েছেন তাদের নেত্রীর দেখা। পাঁচ বছর আগে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তার ছেলে দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে। কয়েকটি মামলায় দণ্ড নিয়ে লন্ডনে থাকা তারেক এখনও সেই দায়িত্বেই রয়েছেন। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার পক্ষে ফেনী-১ ও বগুড়া-৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়। তবে সাজার কারণে দুটোই বাতিল হয়ে যায়।

খালেদা জিয়াবিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার দণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিনি সেই দণ্ড থেকে মুক্তি পাননি। মানবিক কারণে সরকার তাকে বাসায় থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। অসুস্থ মানুষকে মানবিক কারণে তার দণ্ডাদেশ থেকে মুক্ত নয়, স্থগিত করা হয়েছে। তাহলে তার রাজনীতি করার প্রশ্ন আসে কোথা থেকে? দণ্ডিত একজন কয়েদি হিসেবে খালেদা জিয়ার রাজনীতি করার সুযোগ নেই।’ খালেদা জিয়ার উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, অসুস্থ না হলে তিনি থাকতেন কোথায়? কারাগারে। তাহলে রাজনীতি করার সুযোগ কোথায়? দণ্ডিত ব্যক্তির রাজনীতি করার সুযোগ কোথায়? দণ্ডিত ব্যক্তি তো জেলে থাকবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিও বুঝতে পারছে যে খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। দণ্ডিত ব্যক্তির ব্যাপারে তাদের সন্দেহ না থাকলে তারা ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছেন? নিশ্চয়ই ইনি ভ্যালিডেবল না, সে জন্য তাকে বাদ দিয়েছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিউট অব ইন্ট্যারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়া ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন, দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। এর বাইরে কোনো শর্ত নাই। উনি নির্বাচন করতে পারবেন না কারণ উনি দণ্ডিত, রাজনীতি করতে পারবে না এমন কথা কোথাও নাই। তিনি বলেন, মানবতার খাতিরে প্রধানমন্ত্রী দণ্ড স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি অসুস্থ, তিনি রাজনীতি করতে পারবেন কি না, সেটি আমি বারবার বলেছি আপনারা দেখেন। স্বাভাবিকভাবে মানুষ মনে করে তিনি অসুস্থ তার রাজনীতি করার অবস্থা নেই। এটাই বাস্তবতা।

গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কেউ যদি দুই বছরের বেশি শাস্তিপ্রাপ্ত হয় তিনি নির্বাচন করতে পারেন না। খালেদা জিয়া দুই বছরের অনেক বেশি শাস্তিপ্রাপ্ত, সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। সুতরাং নির্বাচন করার প্রশ্নই আসে না। আর সরকার তাকে শর্তসাপেক্ষে ঘরে থাকার অনুমতি দিয়েছে তার স্বাস্থ্য বিবেচনায়। তার শারীরিক অবস্থা এবং বয়স বিবেচনায় তাকে শর্তসাপেক্ষে কারাগারের বাইরে ঘরে অবস্থান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই শর্ত অনুযায়ী তিনি রাজনীতিও করতে পারেন না।’

বুধবার সচিবালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে বাধা নেই। তিনি জেলে থেকেও দল পরিচালনা করতে পারবেন, বিভিন্ন নির্দেশনা দিতে পারবেন। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসাবে আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে বর্তমান নির্বাচনী আইনে যা আছে, তাই মানতে হবে। এখানে সরকার বা নির্বাচন কমিশনসহ কারো কিছু করার নেই


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর