বিল্লাল হোসেন, বরুড়া:
কুমিল্লার বরুড়ায় কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে মো. সফিকুল ইসলাম নামে এক মৎস্য চাষীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। নিহত মো. সফিকুল ইসলাম (৫০) উপজেলার খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়নের হরিপুর বেলতলী নামক গ্রামের বাসিন্দা মৃত. চারু মিয়ার ছেলে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. সফিকুল ইসলামের বসত বাড়ী সংলগ্ন সম্পর্কে চাচা শ^শুর বজলু মিয়ার পরিত্যাক্ত ১১ শতক ভিটা বাড়ীতে ভোগ দখল করে আসছিলেন। এমতাবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (২৯ শে এপ্রিল) বিকাল প্রায় তিনটার দিকে পাশ^বর্তী বাড়ির মো. আনোয়ার হোসেন ওই ভিটি বাড়িটি নিজের দাবী করে মো. সফিকুল ইসলামের লাগানো স্থানীয় জাতের কয়েকটি কলা গাছ কেটে ফেলেন। এ সময় মো. সফিকুল ইসলাম বাঁধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মো. আনোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তার ভাই এবং ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতারি পিটিয়ে মো. সফিকুল ইসলামকে গুরুতর আহত করেন। এ সময় বাঁধা দিতে এসে মো. সফিকুল ইসলামের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪২) এবং ছেলে সায়মন (১৮) সহ আরও ৫জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মো. সফিকুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা শহরের গোমতী হাসপাতাল (প্রা:) ভর্তি করানো হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার প্রায় বিকাল আড়াইটার দিকে মো. সফিকুল ইসলাম মারা যান। পরে ওই দিন রাতে নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে তার স্বামী মো. সফিকুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খোকন, মো. রিহান, মো. স্বপন, মো. হৃদয় সহ ৫জনকে আসামী করে বরুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এছাড়া আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।