• রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

বরুড়ায় শসা আবাদে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক

News Room / ২৬ Time View
Update : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

রিয়াজ উদ্দিন রানাঃ
কুমিল্লার বরুড়ায় চলতি মৌসুমী স্থানীয় জাতের শসা আবাদ করে ভালো ফলন না পাওয়ায় আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকেরা। কৃষকদের অভিযোগ, অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের আবাদকৃত দ্রুত বর্ধনশীল শসা গাছ ফুল কড়া সহ শুকিয়ে মরে যাওয়ায় ফলনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যার ফলে এ আবাদে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যার ফলে তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। কিংকর্তব্য বিমুঢ় হয়ে পড়েছেন তারা। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি রবি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১০৫ একর হেক্টর জমিতে এখানকার কৃষকেরা শসা আবাদ করেছেন। তারমধ্যে খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়নে এবং আগানগর ইউনিয়নে প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে, ভবানীপুর ইউনিয়নে ২০ হেক্টর জমিতে, বাদ বাকী ৫ হেক্টর জমিতে শসার আবাদ হয়েছে পৌরসভা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে। সরজমিনে গিয়ে কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গত প্রায় চার দশক যাবত সব অঞ্চলের কৃষকেরা স্থানীয় জাতের শসা রবি এবং খরিপ এই দুই মৌসুমে আবাদ করে থাকেন। স্থানীয় জাতের এ শসা সবজি হিসেবে অতি সুমিষ্ট এবং রসালো হওয়ায় এর চাহিদা এবং খ্যাতি রয়েছে। এ জাতীয় শসা আবাদ করে কৃষকেরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে আসছেন। প্রতি এই দুই মৌসুমে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজি ব্যবসায়ীরা এখানকার কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদিত স্থানীয় জাতের শসা ক্রয় করে নেন। এতে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে থাকেন। এমতাবস্থায় চলতি রবি মৌসুমে স্থানীয় জাতের শসা আবাদ করে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারনে ফলনে বিপর্যয়ের ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অধিকাংশ কৃষকেরা। কৃষকদের মধ্যে মো. বাচ্চু মিয়া জানান, তিনি ৩৬ শতক জমিতে স্থানীয় জাতের শসা আবাদ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে ৬০ হাজার টাকা, মো. মনির হোসেন জানান, তিনি তার ১ একর ৮ শতক জমিতে স্থানীয় জাতের শসা আবাদ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। মো. আলম জানান, তিনি তার ১৫ শতক জমিতে স্থানীয় জাতের শসা আবাদ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। এ থেকে তারা যত সামান্য শসা বিক্রি করতে পারছেন। তারা আরও জানান, তাদের আবাদকৃত শসা ক্ষেত সঠিকভাবে পরিচর্যার এক পর্যায়ে শসা গাছ মাচায় জড়ানো অবস্থায় ফুল আর যত সামান্য ফল আসার পর হঠাৎ করে গাছের মূল পচন ধরেছে আর পুরু গাছ শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এ চিত্র পুরো মাঠজুড়ে। এ থেকে রক্ষা করার জন্য নানা কীটনাশক, সার ব্যবহার করেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এ থেকে তারা যতসামান্য শসা বিক্রি করতে পারছেন। লাভ থাক তো দূরের কথা উৎপাদন খরচ মেটানো সম্ভব হবে না। যার ফলে চলতি মৌসুমে শসা আবাদ করতে গিয়ে তারা আর্থিক ভাবে ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ধার-দেনা করে তারা এ শসা আবাদে মনোনিবেশ করেছিলেন। এ ক্ষতি তারা কিভাবে পুষিয়ে নিবেন চিন্তায় তারা মুসড়ে পড়েছেন। অন্য কৃষকেরাও একই অভিমত ব্যক্ত করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যার ফলে কৃষকদের রোগাক্রান্ত শসা ক্ষেত ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর